বিষয়টি কারো কারো সারা জীবনে কৃত আকামের জন্য মানুষের কাছে মাফ চাওয়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উড়োচিঠি প্রেরণ সংক্রান্ত। দেশে-বিদেশে করোনা মহামারী যখন আচ্ছামতো ঘাপানি শুরু করে, তখন কিছু চালু মাল ফেইসবুক ও ম্যাজেন্জার ইত্যাদি মিডিয়ার সুযোগ নেন। অনেকটা আকাশের ঠিকানায় উড়োচিঠি দিয়ে বা গণবিজ্ঞপ্তি জারী করে মাফ চাওয়া। তারা সুন্দর সুন্দর ভাষায় ইনিয়ে-বিনিয়ে মাফ চান এমনভাবে যে, জিন্দেগীতে আমি আপনার যতো হক নষ্ট করেছি, ফাঁকি দিয়েছি, কষ্ট দিয়েছি, মিথ্যা মামলা দিয়েছি, সরকারী অর্থ ও সাহায্য মেরে খেয়েছি তা শরমে সবার সামনে খুলে বলতে পারছি না, আপনিতো জানেন। আমি হারামখোর শয়তান হলেও আপনিতো নিরীহ নেককার মানুষ। সুতরাং আপনি নিজ গুণে মাফ করে দিয়েন। যদি করোনা মহামারী করূণা না করে কবরে শশ্মানে যেতে বাধ্য করে তবে পরকালে তো শান্তি (!) নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
আহা ! কি সুন্দর, লাগসই ও নিরাপদ পদ্ধতি!!
তাদেরকে বলি : আপনি নিরীহ পেয়ে প্রতিবেশীর জমি দখল করেছিলেন, নিজ ভাই-বোনের অংশও মেরে দিয়েছিলেন, একাত্তর সালে অন্যের বাড়ী লুঠ করেছিলেন, শিক্ষক হিসেবে মেধাবীদের নাম্বার কমিয়ে দিয়ে আপনার নিজস্ব বা পছন্দের কাউকে বাড়িয়ে দিয়ে ১ম-২য় বানিয়েছিলেন, অন্যের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেছিলেন তাদের চোখের পানি কি আপনার উড়ো চিঠিতে বন্ধ হয়ে যাবে? নিয়োগ বোর্ডে বড়কর্তা হিসেবে থেকে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ভিন্ন বিবেচনায় অন্যদের নিয়োগ দিয়েছিলেন, পদোন্নতির যোগ্য ব্যক্তিকে ভাসিয়ে দিয়ে কম যোগ্যকে খুশি করেছিলেন, নিরীহ আত্মীয়কে , প্রতিবেশীকে. সহকর্মীকে বিনা দোষে অপমান করে বাহাদুরী শো করেছিলেন, সরকারী অর্থ ও সাহায্য মেরে খেয়েছিলেন, ওজনে কম দিয়েছিলেন, খাবারে ওষুধে ভেজাল মিশিয়েছিলেন। চাকুরী দিতে পদোন্নতি পেতে বেচারাদের মায়ের গয়না, বাবার গরু-জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছিলেন। তারা কি আপনার উড়ো চিঠিতে মোহিত হয়ে মাফ করে তাহাজ্জুদ পড়ে দরবারে ইলাহীতে হাত তুলে দু’চোখের পানি ছেড়ে বলবে : মাওলা মা‘বুদ “ অমুক শয়তানের উড়োচিঠির বদৌলতে তার আমলনামা থেকে আমার সব কষ্ট মুছে দাও ?
দুনিয়ার কেউ না জানলেও আপনার অবচেতন মন খোঁচা দেয় আপনার কৃতকর্মের জন্য, আপনার পাপের জন্য, আপনার অত্যাচার ও হক ফাঁকির জন্য । এজন্য আপনি যদি সত্যিই মাফ চান তাহলে, যার স্বার্থ ও অর্থ তাকে পূরোটা-ষোল আনা ফেরৎ দিন তারপরে মাফ চান। যাদের শিক্ষাজীবনে বা চাকুরী জীবনের ক্ষতি করেছেন তাদের কাছে যান, হাতে পায়ে ধরেন। তারা মারা যেয়ে থাকলে তাদের কবরের পাশে যেয়ে কাঁদেন এবং তাদের বঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের কাছে যান। তাদের দেনা পরিশোধ করেন এবং খুলে বলেন তারপর তাদের হাতে পায়ে ধরে মাফ চান। অত:পর রাতের আঁধারে তাহাজ্জদ পড়ে আল্লাহর কাছে মাফ চান।
মনে রাখতে হবে আল্লাহর শানে বড় গোনাহ করলেও আল্লাহ মাফ করতে পারেন। কিন্তু, যে বান্দার হক সেই বান্দা মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না।
-লেখক মোহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান
সংগ্রহে এনএনসি