দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্নকেপ প্রদেশে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন প্রবাসী ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। বুধবার (২৭ এপ্রিল) জোহানেসবার্গের ফোর্ডসবার্গে একটি হলরুমে সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতাদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
আফ্রিকার এই দেশটির ইস্টার্নকেপ প্রদেশের ইস্ট লন্ডন শহরে পরিবারসহ বাস করছেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। ব্যবসার পাশাপাশি সমাজসেবার লক্ষ্যে মুক্তবাংলা ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম নবীর হোসেন নামে অপর এক প্রবাসী বাংলাদেশির বিরুদ্ধে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না বলেও জানান শফিকুল।
তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে তার সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছে না। আতঙ্কে ঘরবন্দি জীবন যাপন করছে তারা।
শফিকুল আরও বলেন, নবীর হোসেন তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তার হুমকিতে পরিবার ও নিজের জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে শফিকুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা কাজল মিয়া ও আব্দুল মজিদ প্রান্তিকসহ আরও অনেকে। এছাড়া তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও উপস্থিত ছিল।
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম জানান, ‘গত বছর ডিসেম্বর মাসে নবীর হোসেন নামে এক বাংলাদেশি অপহরণের শিকার হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার মুক্তির ব্যবস্থা করি।’
শফিকুল আরও বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, নবীর হোসেন মুক্ত হওয়ার পর উল্টো আমাকেই অপহরণকারীর অপবাদ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। নবীর হোসেনের ভগ্নিপতি নুরুল আমিন ও ভাগ্নেরা প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদের হুমকির কারণে ঘরবন্দি হয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অস্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সন্তানকে গত চার মাস ধরে স্কুলে দিতেও পারছি না।’
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ও তার স্ত্রী তাদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন। সেই সঙ্গে অপপ্রচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য দূতাবাস ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, তারা মুক্তভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে চান।